মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
ধর্ম ইসলামে বিশ্বাসী মুসলমানের মধ্যে ধর্মানুভূতি অত্যন্ত প্রখর। তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশে ধর্মানুভূতিতে আঘাত শ্লীলতাহানির পর্যায়ে পড়ে। ধর্মহীনভাবে প্রতিটি মানুষের জন্মগ্রহণ করা এবং মৃত্যুর পরবর্তীতে এ পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই জানা সত্ত্বেও ধর্ম প্রতিষ্ঠায় চলে এক অপরিসীম যুদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যাণে এটি স্পষ্ট পৃথিবীতে কোরআন থেকে শুরু করে যত ধর্মগ্রন্থ মানুষের মধ্যে ধর্মান্ধতার উন্মাদনা ছড়িয়েছে, এসকল ধর্মগ্রন্থ কোনো ঈশ্বর, আল্লাহ কিংবা স্রষ্টার নয় মানুষেরই লেখা ও সৃষ্টি।
আজ থেকে ১৪০০ হাজার বছর পূর্বে নবী মুহাম্মদ প্রচার করেন শান্তির ধর্মের নামান্তরে আজকের বিশ্বব্যাপী যে বর্বরতা, হত্যাকাণ্ড, রক্তপাত এবং মানবাধিকার বিধ্বংসী ধর্ম ইসলাম। এই ইসলাম আজকের বাংলাদেশে ছড়িয়েছে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা। যেখানে অনুভূতিপ্রবণ মুসলমান জঙ্গিবাদকে ইসলামের অপব্যবহার বলে দায় এড়াতে চায়।
ইসলামের ধর্মগ্রন্থ কোরআন ও ঐতিহ্যের মধ্যেই সশস্ত্র জিহাদ, ইসলামে অবিশ্বাসী এবং অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, নারীর অধিকারের প্রশ্নে বৈষম্য, ইসলাম থেকে বিচ্যুতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে আজকের যে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থী জামায়াতে ইসলামী, জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), নব্য জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, চরমোনাই, হেফাজতে ইসলাম, হিজবুত তাহরিরের সংগঠনগুলো ইসলামী শরিয়াহ আইন, খিলাফত ও কোরানের আইন প্রতিষ্ঠায় দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞে মত্ত হয়েছে। ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন মত, ভিন্ন গোষ্ঠী ও ভিন্ন যৌন পরিচয়ের নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে শুধুমাত্র শরিয়াহ ও কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠায় এবং ধর্মের মান রক্ষায়। এসব ইসলামী জিহাদি জঙ্গিরা নিশ্চয় এসব নিজেরা তৈরি করেনি। ধর্মীয় উৎস থেকেই তাদের যুক্তিগুলো সংগৃহীত। এবং এসকল মতবাদই সেই নৈতিক অনুমোদন যোগায়।
কিন্তু এসকল ইসলামী জিহাদি জঙ্গিরা অন্যায়ভাবে যে বেহেশত লাভের আশায় নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে, এভাবে নিরীহ মানুষের রক্ত মেখে কি রূপকথায় হেরেমখানা জান্নাতুল ফেরদাউসে যাওয়া সম্ভব?
প্রাগৈতিহাসিকভাবে এটি স্পষ্ট নবী মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের নিরিখে মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রভাব, অর্থ ও নারী। ইসলামে বদর, উহুদ, খন্দক, খায়বার ও হুনাইনের যুদ্ধসহ অসংখ্য যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্বয়ং নবী মুহাম্মদ। কিন্তু এরপর যুদ্ধ জয়ের পর যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। যেখানে যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীরা নিজেদের শারীরিক চাহিদা পূরণে জোরপূর্বক যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হত। এমনকি কোরআন নবী মুহাম্মদকে এসকল যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁদের সাথে সঙ্গমের অনুমতি প্রদান করে।
সূরা আন-নিসায় (মালাকাত আইমানাকুম) শব্দটি ব্যবহার করে বিবাহিত বিবাহিত নারীদের—সাথেও যৌনতার অনুমতি প্রদান করা হয়। অর্থাৎ কোরআন নবী মুহাম্মদ নিজের প্রয়োজনে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আয়াত নাজিল করে অসহায়ত্বে থাকা নারী ও কিশোরীদের সম্ভোগ করতেন। নবী মুহাম্মদের ১১ জন স্ত্রী থাকার পরও মারিয়া এবং রাইহানা নামে দুজন দাসী ছিলেন; যাদের সাথে নবী মুহাম্মদ বিবাহবহির্ভূতভাবে ধর্মীয় আইনের ব্যাখ্যায় যৌন মিলনের বৈধতা উৎপন্ন করেছিলেন।
ইসলামী আইন যুদ্ধবন্দি/দাসী নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈধ হিসেবে স্বীকার করেছিল। এবং এটি সুপ্রাচীন দাসপ্রথারই অংশ। এসকল যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের সম্ভোগের পর দাসী হিসেবে বাজারে বিক্রিও করা হত। এবং ইসলাম এসকল বিষয়কে কখনোই নিরুৎসাহিত করেনি।
ইসলামী জিহাদিরা আজকের বাংলাদেশেও শরিয়াহ আইন ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার নামে যে রক্তপাত, প্রতিহিংসা ও ভিন্ন মত দমতে উদ্ধত আচরণ দেখাচ্ছে, তা এই ঐতিহাসিকভাবে নবী মুহাম্মদের বর্বরতাকে ফিরিয়ে আনারই প্রয়াস।