মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
পৃথিবীর ইতিহাসে কালের বিবর্তনে শত সহস্র ধর্মের উৎপত্তি ঘটেছে। অগণিত স্রষ্টা, দেবদেবী, উপাসনা এবং ভক্তি ও ভয়ের মূর্তিমান আতঙ্কের মধ্যেই বিস্তৃত হয়েছে এর ক্ষেত্র।
আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থায় ধর্ম ইসলাম একটি আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত। এর সাথে ব্যাপ্তি ইসলামী মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের। ইসলামের সন্ত্রাসবাদের বদৌলতে বহু দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়।
৯১% মুসলমানের দেশে মানুষের অধিকারকে লুণ্ঠিত করা হয়েছে নারী, গোত্র, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, যৌন পরিচয় এবং ধর্মীয় শরিয়াহ আইনের ভিত্তিতে। ১৯৭২ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রকাঠামোতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন প্রাধান্য পেয়েছিল। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে কি হলো?
জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া থেকে শেখ হাসিনা—এরা প্রত্যেকেই ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে উৎপাটন করেছে। ধূর্ত নবী মুহাম্মদের ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছে, মৌলবাদীদের ইসলামী রাজনীতির ভিতকে উন্মোচিত করেছে। ধর্মীয় উন্মাদনার কাছে মুক্তচিন্তা ক্রমান্বয়ে ব্যতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ধর্মের, কোরআনের ও ধূর্ত নবী মুহাম্মদের কথিত ইসলামী মৌলবাদ যতটা বিস্তৃত হয়েছে ধর্মীয় জিহাদিরা ততটাই উন্মাদনায় মেতেছে। দশকের পর দশক ধরে এই অনুকূল পরিবেশে সমগ্র বাংলাদেশকে জিহাদিস্থানে পরিণত করেছে। এই পরিবেশের কারণেই একের পর এক মুক্তমতের এবং মুক্তচিন্তার মানুষদের আল্লাহর নামে, নবী মুহাম্মদের নামে ধর্মের মান রক্ষায় নারায়ে তাকবির ধ্বনিতে ধারালো উন্মুক্ত অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে কথিত বেহেস্তি হেরেমখানায় ৭২ হুরের সাথে যৌন সঙ্গমের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। লেখক-ব্লগার-প্রকাশক-শিক্ষক যারাই যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন ততই মৃত্যু আর লাশের সারি দীর্ঘতর হয়েছে।
ধর্ম ইসলামের ইতিহাস ঐতিহাসিকভাবেই পশ্চাৎপদ। ইসলাম কোরআন ও নবী মুহাম্মদের জীবনবোধকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে। সে জায়গায় নবী মুহাম্মদের জীবনবোধ ও জীবনের দর্শন কখনোই ভিন্নতা থাকা বিষয়ের প্রতি উদারনৈতিক ছিল না। এবং নারীসহ অসংখ্য বিষয়ের প্রতি তাঁর অবস্থান ছিল সংকীর্ণ। কোরআনে নিজের পরিস্থিতিকে উপলক্ষ্যকে বাস্তবায়নে আয়াত নাজিল করে প্রলুব্ধ করেছে ধর্মে বিশ্বাসী ধর্মান্ধদের। নারীদের প্রতিও ইসলাম, নবী ও কোরআনের অবস্থান অবমাননাকর।
কোরআনে বলা হচ্ছে, নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষের জন্য, পুরুষের বিনোদন এবং অবসন্নতা কাটাবার জন্য। এটি নারীর জন্য চরমভাবে অমর্যাদাকর। নারীর সৃষ্টি যদি পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য হয়ে থাকে, তা অবশ্যই নারীকে একটি স্বাধীন এবং স্বাভাবিক সত্ত্বা হিসেবে চিহ্নিত করে না। কোরআনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, নারী হচ্ছে শস্যক্ষেত্রস্বরূপ, তাকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে।
এ সবই ছিল নবী মুহাম্মদের মনস্তত্ত্ব। যা একজন নারীর জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকর এবং অসম্মানজনক।
নবী মুহাম্মদ আরও বলেছেন দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।
নবী মুহাম্মদের জীবনেও এর উদাহরণ রয়েছে। মাত্র ৬ বছর বয়সে শিশু আয়েশাকে বিয়ে করেন। এবং ৯ বছর বয়সে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নারী ও শিশু অধিকার আইন ২০০০ এর ব্যত্যয়। এখানে ইসলাম ধর্মের এই নবী এমন একটি শিশুর সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ালেন যখন একটি শিশুর নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয় না।
ইসলাম সেই বর্বর ধর্ম ব্যবস্থা যেখানে এই প্রচারক নবী মুহাম্মদও একজন মানবতাবিরোধী এবং শিশু নিপীড়ক। সে ধর্ম কি করে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায় বিধান করতে পারে?
ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। ধর্ম ইসলামের মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে রুখে দিতে হবে।