মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের মুসলমানরা যতটা না ধর্মভীরু তারচেয়েও বেশি ধর্মান্ধ। এ ধর্মান্ধরা ইসলাম প্রতিষ্ঠায় উদগ্রীব। কিন্তু এসব মুসলমানের বেশিরভাগেরই ধর্মজ্ঞানের উৎস মসজিদের ইমাম, মাওলানা, পীর, ওয়ায়েজ এবং তাবলিগকারী। এবং এর সাথে ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ইসলামী মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী সংগঠনগুলো। যেখানে ইসলামের অনুভূতিকে পুঁজি করে বিস্তৃত হয় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষাপট।
ধর্ম সম্পর্কে যে কোনো ব্যাখ্যা, যুক্তি ও উচ্চারণকে ধর্মানুভূতিতে আঘাত হিসেবে মনে করা হয়, এবং সে সকল মানুষকে হত্যাযজ্ঞ করে তোলা হয়। অর্থাৎ নবী মুহাম্মদের প্রচারিত এ ধর্ম হত্যাযজ্ঞকে অনুমোদন দেয় শুধুমাত্র ইসলামের যে ভ্রান্তি, কোরআনের ব্যাখ্যা, মানবাধিকার বিবর্জিত শ্লোক এবং সমস্ত কোরআনজুড়ে যে সমস্ত অবমাননাকর ঐতিহাসিক বিবৃতি এবং কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে সেসব বিষয়ে যেন কেউ প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ না পায়।
বাঙালি মুসলমানের জন্য যে বিধর্মী গিরিশ চন্দ্র সেন কোরআনের বাংলা অনুবাদ রচনা করলেন, সেই গিরিশ চন্দ্র সেন নিজেও ইসলাম ধর্মকে গ্রহণ করেননি, নিজের মুসলমানিত্বের প্রকাশে উন্মুখতা ও উন্নাসিকতা দেখাননি।
কোরআনে রয়েছে ঐতিহাসিকভাবে সে সময়কালের বর্ণনা যখন নবী মুহাম্মদ ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে, যুদ্ধ জয়ের পর যেসকল উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন; যেখানে নিজের স্বীয় কামনা-বাসনার জায়গা অর্থবহ হয়ে উঠত। নিজস্ব যৌনতার আবেদন তাড়িত করত একজন সাধারণ মানুষের মতোই। যা নবী মুহাম্মদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা থেকে ধর্মের দেয়াল তৈরি করে নিজস্ব সত্তার প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
এ কোরআন কোনো ঐশ্বরিক গ্রন্থ তো নয়ই, বরঞ্চ এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে কাল্পনিক স্রষ্টাকে উপলক্ষ্য করে নবী মুহাম্মদের নারীর প্রতি যৌন প্রবঞ্চনাকে প্রলুব্ধকর ইতিহাস হিসেবেই উপস্থাপনা করে। একই সাথে কোরআন যে সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনার পরম্পরার উপস্থাপনা বর্ণিত তার বেশিরভাগই এ আধুনিক যুগে মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করে, বর্বরতাকে উস্কে দেয়।
কোরআন আজকের এই সময়েও প্রচারণার তুঙ্গে শুধুমাত্র ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতা থেকে উৎসারিত হয়ে। এ ধর্মগ্রন্থ কোরআন ও ইসলামকে ছুড়ে ফেলতে হবে। পুড়িয়ে ফেলতে হবে মানবসভ্যতার বর্বরতার এ ঐতিহাসিক রম্য রচনার বই।
সভ্যতা, সংস্কৃতি ও রুচিবোধের বিপর্যয়ের কারণ এই অধর্মের বই কোরআন। যা আজও শত সহস্রাধিক মানুষকে বিপথগামী করে, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে। কোরআনকে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, এতে সভ্যতায় বর্বরতা খসে পড়বে। এতে অনুভূতিতে আঘাত লাগার মত কোনো বিষয় নেই, এতে আছে মানবতা ও সভ্যতা মুক্তির জয়যাত্রা।